মঙ্গলবার, ২৭ জুন ২০২৩, ১২:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার মাদারীপুর জেলা কমিটি গঠন শশীভুশনে পৈত্রিক সম্পত্তি জোর করে দখলের পায়তার শিরোনামের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা।। মাদারীপুরে তিতু মুন্সির সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সাংবাদিকের উপর হামলা!থানায় অভিযোগ  মাদারীপুরে চারতলা নতুন ভবনের এক তলা শুভ উদ্বোধন ভূমি অফিস কতৃক আয়োজিত ভূমিসেবা সপ্তাহের শুভ উদ্বোধন। সভাপতি শামীম, সম্পাদক রনি বিক্রমপুর টঙ্গীবাড়ী প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন মহেশখালীতে শানে সাহাবা খতীব কাউন্সিলের আহবায়ক কমিটি গঠন; রাহমত উল্লাহ আহবায়ক, আজিজুর রহমান সদস্য সচিব নুরুল করিম নির্বাচন সামনে রেখে নাশকতার চেষ্টা করলে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা হবে’–শাজাহান খান গলাচিপায় পুকুরে চাষকৃত মাছ ধরার অভিযোগ দৈনিক ভোরের অঙ্গীকার অনলাইন নিউজ পোটাল উদ্বোধন

ট্রেনযাত্রায় পূর্ণতা পেল স্বপের পদ্মা সেতু

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বপের পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয় গত বছরের ২৫ জুন। এতে দক্ষিণ বাংলার ২১ জেলার মানুষের পদ্মা সেতুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়। তারপরেও যেন স্বপ্নের অপূর্ণতা ছিল। এবার পদ্মা সেতুতে ট্রেনযাত্রায় সেই স্বপ্নের পূর্ণতা পেল। মঙ্গলবার ফরিদপুরের ভাঙা স্টেশন থেকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এই প্রথম পাথরবিহীন রেলপথ পদ্মা সেতু পার হয়ে মাওয়া প্রান্তের স্টেশনে এসে থামে পরীক্ষামূলক চলাচল ট্রেনটি। মঙ্গলবার দুপুর ১টা ২১ মিনিটে সাত বগির একটি বিশেষ ট্রেন ভাঙ্গা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে মাওয়া স্টেশনের দিকে রওনা দেয়। ২টা ৩৫ মিনিটে ট্রেনটি পদ্মা সেতুর সংযোগ রেলপথে ওঠে। প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে মূল পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে। এই ট্রেন ৪২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ৩টা ১৮ মিনিটে মাওয়া স্টেশনে এসে থামে। ট্রেনটির চালকের আসনে ছিলেন রেলওয়ের লোকোমোটিভ মাস্টার (এএলএম) রবিউল আলম। এরমধ্য দিয়ে দক্ষিণ বাংলার যোগাযোগের নতুন অধ্যায় রচিত হলো। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের প্রায় নয় মাস পর এই মাইলফলক রচিত হলো। যদিও বাণিজ্যিকভাবে এ পথ দিয়ে ট্রেন চলাচলের জন্য আগামী সেপ্টম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এর আগে দুপুর ১টা ৫মিনিটে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন উৎসবমুখর পরিবেশে ফরিদপুরের ভাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে এই পরীক্ষামূলক ট্রেনযাত্রার উদ্বোধন করেন। এ সময় রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার স্বপ্ন একটা একটা করে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। তারই অংশ হিসেবে আজ এই ট্রায়াল ট্রেন চলছে। আগামী সেপ্টেম্বরে ভাঙ্গা থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করবে এবং তার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা এই ট্রেনকে যশোর পর্যন্ত নিয়ে যাব। তবে তার জন্য আমাদের ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ সময় পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ব্রিগেডিয়ার সাইদ আহমেদ বলেন, প্রকল্পের কাজ শুরু করতে আমাদের তিন মাস দেরি হয়েছিল। তারপরেও সময়মতো কাজ শেষ করতে পারায় আমরা আনন্দিত। এরই মধ্যে আমাদের এই অংশের কাজের ৯২ ভাগ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ প্রকল্প মেয়াদের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। উদ্বোধনের সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, নাহিম রাজ্জাক, মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, আবদুস সোবহান গোলাপ। এছাড়া ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন, পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর আমেরিকার তৈরি ইঞ্জিন আর চীনের তৈরি সাত বগির বিশেষ ট্রেনে করে মাওয়া প্রান্তে যাত্রা শুরু হয়। ট্রেনে রেলমন্ত্রী এবং আমন্ত্রিত অতিথিসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষার্থী, যুব সমাজের প্রতিনিধিরা যাত্রী ছিলেন। এই ট্রেনটির সামনে ছিল ‘গ্যাং কার’। সেখানে অস্থায়ী চেয়ারে সংবাদকর্মীদের বসার ব্যবস্থা ছিল। দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে ট্রেনটি জাজিরায় পদ্মা স্টেশন দিয়ে যাওয়ার সময় কর্মীরা বাংলাদেশ ও চীনের পতাকা হাতে ট্রেনটিকে স্বাগত জানায়। দুপুর ২টা ৪৮ মিনিটে ট্রেনটি খুব ধীর গতিতে পদ্মা সেতুর নিচের ডেকে প্রবেশ করে। এসময় ট্রেনের ভেতরে দেশাত্মবোধক গান চলছিল। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এই প্রথম পাথরবিহীন রেলপথ। এতক্ষণ ঝমঝম শব্দে ট্রেনটি চললেও সেতুর ওপর রেলপথে সেই শব্দ বিলীন হয়ে যায়। কেবল চাকার সঙ্গে লাইনের ঘর্ষণের একটা শো শো শব্দ আসছিল। এদিকে, ভাঙ্গা স্টেশন থেকে সেতু পর্যন্ত রাস্তার দু’পাড়ে ছিল উৎসুক সাধারণ মানুষের ভির। ছিলো ট্রেন লাইনে পাশে থাকা স্কুলের শিক্ষার্থীরা। তারাও হাত নেড়ে অভিবাদন জানায়। এছাড়া এই ট্রেনে লাইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও হাত নেড়ে ট্রেনের যাত্রীদের শুভেচ্ছা জানান। ভাঙ্গা স্টেশন হতে মাওয়া স্টেশন পর্যন্ত দূরত্ব ৪২ কিলোমিটার। প্রথম দিনে ট্রায়াল যাত্রায় দুই ঘণ্টায় এই পথ অতিক্রম করে ট্রেনটি। তবে শুধু মূল সেতু পারি দিতে সময় লাগে প্রায় ২০ মিনিট। প্রথম দিনে ট্রেনের সব্বোর্চ গতি ছিল ৩০ কি.মি। তবে গড়ে ২০ কি.মি গতিতে চলেছে ট্রেনটি। ভাঙ্গা হতে মাওয়া পর্যন্ত চারটি স্টেশন ও একটি জংশন স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। সেগুলো হচ্ছে-ভাঙ্গা স্টেশন, ভাঙ্গা জংশন স্টেশন, শিবচর স্টেশন, পদ্মা স্টেশন ও মাওয়া স্টেশন। স্টেশনগুলো এখনো নির্মাণাধীন থাকলেও পরীক্ষামূলক এই যাত্রায় শ্রমিক ও কর্মকর্তারা পতাকা উড়িয়ে ট্রেন যাত্রীদের স্বাগত জানান। পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের ৪২ নম্বর ও মাওয়া প্রান্তের ১ নম্বর পিয়ারে আতশবাজি ফাটিয়ে ট্রেনকে স্বাগত জানানো হয়। চীনের ঋণ ও সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ঢাকার কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, ঢাকার কেরাণীগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, নড়াইল, মাগুরা হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার মূল লাইনসহ ২১৫ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেললাইন তৈরি করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে মাওয়া, মাওয়া থেকে ভাঙ্গা এবং ভাঙ্গা থেকে যশোর এই তিন ভাগে প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাল ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত। দুই তলা পদ্মা সেতুর উপরতলার সড়কপথ গত বছরের ২৫ জুন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২০ অগাস্ট সেতুর নিচতলায় রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয়। সাত মাসের মাথায় গত ৩১ মার্চ সেতুর ওপর রেললাইন তৈরির কাজ শেষ হয়। এই রেললাইনটি পাথরবিহীন (ব্যালাস্টলেস), সেতুর পাটাতনের উপর ঢালাইয়ের মাধ্যমে স্লিপার বসানো হয়েছে। মাওয়া প্রান্তে এক ব্রিফিংয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, নতুন রেল পথের জন্য চীন থেকে ১শ’ কোচ আনা হচ্ছে। ৪৫ টি পৌঁছে গেছে, বাকি ৫৫টি শিঘ্রই আসবে। গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ৭৪ শতাংশ। ঢাকা-মাওয়া অংশের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৭২ শতাংশ এবং মাওয়া-ভাঙ্গা অংশের অগ্রগতি প্রায় ৯১ শতাংশ। ভাঙ্গা-যশোর প্রকল্পের কাজ এগিয়েছে প্রায় ৬৮ শতাংশ। প্রকল্পের খরচ বাড়ছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী বছর জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এটা বলা যাবে।



ফেসবুক
ব্রেকিং নিউজ